বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ৬১তম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী শিক্ষা সফর ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের সার্বিক উদ্যোগে ওই ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ব্যাচের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অংশ হিসেবে ১৩ জন নেপালি এবং ৩ জন মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীও ভ্রমণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ভেটেরিনারি শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সব ধরণের প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। শ্রেণিকক্ষের বাইরে বন্য ও বন্দি প্রাণীদের লালন-পালন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতেই এই শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। সফরকালে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্য তালিকা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন পরিচর্যা বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এই শিক্ষা সফরে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রমা রানী সরকার, অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান এবং অধ্যাপক ড. মোসা. সোনিয়া পারভীন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. কামরুল হাসান বাবু, পাবলিসিটি অফিসার মো. সোহরাব-আল-রুবাইত, জু অফিসার মো. জাহিদ হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “তাত্ত্বিক পড়াশোনার বাইরে বন্য ও বন্দি প্রাণীদের শারীরিক গঠন, আচরণ এবং রোগব্যাধি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা একজন ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় চিড়িয়াখানার মতো জায়গায় এসে প্রাণীদের চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।”
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, “চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর সঠিক পুষ্টি ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানদের ভূমিকা অপরিহার্য। বাকৃবির শিক্ষার্থীদের এই সফর তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমন ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সহায়তার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”