জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা, সুবর্ণখালী ও ঝিনাই নদীসহ বিভিন্ন নদীতে নৌভ্রমণের আড়ালে মাদক সেবন ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জিত কিছু নৌকায় উচ্চস্বরে গান বাজানোসহ নানা অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে নদীপথে নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক বা বিনোদনপ্রত্যাশীদের মতো নৌকা ভাড়া করে নদী ভ্রমণে বের হন অনেকে। এসব নৌকা সরিষাবাড়ী হয়ে ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধের দিকে যায়। তবে সন্ধ্যার পর কিছু নৌকায় পরিবেশ বদলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রংবেরঙের আলোকসজ্জায় সাজানো নৌকাগুলোতে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর পাশাপাশি মাদক ও মদ্যপানের আসর বসে। কোথাও কোথাও নারী-পুরুষের অশালীন আচরণের অভিযোগও রয়েছে। নদীপথের নির্জনতা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এসব কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

পোগলদিঘা গ্রামের আজাহার আলী, দামোদরপুর গ্রামের মোতালেব মিয়া, জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটের মোজাফফর আলী ও পিংনা বাজার ঘাট এলাকার আলামিনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নৌভ্রমণ এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের একটি ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম। কিন্তু কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সন্ধ্যার পর নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরিবার নিয়ে চলাচলেও অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

নদীর তীরবর্তী এলাকার কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, নদীতে গোসলের সময় কিছু নৌকা থেকে তাঁদের উদ্দেশে কটূক্তি ও অশোভন অঙ্গভঙ্গি করা হয়। তাঁদের দাবি, এ ধরনের আচরণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আরও আশঙ্কা, মাদক সেবন ও অনিয়ন্ত্রিত বিনোদনের পরিবেশের কারণে উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সচেতন নাগরিকরা নদীপথে নিয়মিত পুলিশি টহল, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং নৌযানে মাদক সেবন ও অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নৌভ্রমণের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জামালপুর বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিদিন অভিযান চালানো সম্ভব না হলেও কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ঘটনাস্থলের তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নৌভ্রমণের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীপথে নজরদারি বাড়াবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।