সুনামগঞ্জের বিশ্বখ্যাত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের সংবেদনশীল পরিবেশ, জলজ উদ্ভিদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারীসহ সব ধরনের অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম উদ্ধারের পর ধ্বংস সহ প্লাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরীক্ষণ কমিটি’র সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় সভায় টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, অবৈধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন কার্যক্রমের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে। হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোকে কার্যকর নজরদারির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারীসহ সব ধরনের অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জামের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে সেগুলো ধ্বংস করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, প্রশাসন ও পর্যটকদের সমন্বিত সচেতনতাই টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক এবং রেঞ্জ বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীন।

এ ছাড়া পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি বাহলুল বখত, হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ, সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসার, বাসস জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আমিনুল হক, টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান, সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এবং বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর সমন্বয়কারী সাইফুল চৌধুরী।

সভা শেষে জানানো হয়, খুব শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। গ্রামে গ্রামে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এবং একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।