কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের নির্দেশনায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সার বিতরণ কার্যক্রম চলছে। প্রশাসনের তদারকিতে সিরিয়াল অনুযায়ী সার কিনতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মেসার্স সুরমা ট্রেডিং থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা সিরিয়াল মেনে সার ক্রয় করেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার সাথী, হৈমন্তী রায়সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থেকে সার বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন। পরে সিরিয়াল অনুযায়ী তাদের মাঝে সার বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সার বিতরণ হওয়ায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সার নিতে আসা এক কৃষক বলেন, “চাষাবাদের সময় সার না পেলে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। আগে সার পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। আজ প্রশাসনের লোকজন সামনে থেকে দেখভাল করায় সিরিয়াল অনুযায়ী সার পাচ্ছি। এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
আরেক কৃষক বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি সার পৌঁছাক। ডিলাররা যদি সার মজুত করে রাখেন বা বেশি দামে বিক্রি করেন, তাহলে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। প্রশাসনের এ ধরনের নজরদারি নিয়মিত থাকলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই সার সংকট নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছে সার মজুত রাখা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি কিংবা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে দোকানদারদের কাছে সার সরবরাহের কারণে সাধারণ কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ে। চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে না পারলে ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, “প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সেটি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। কোনোভাবেই যেন সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে অন্য কারও কাছে সার সরবরাহ করা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে সার বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা কৃষি অফিসার শামসুন্নাহার সাথী বলেন, “কৃষকরা যাতে নিয়ম অনুযায়ী ও নির্ধারিত মূল্যে সার পান, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে। সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমসহ ভবিষ্যতেও সার বিক্রি ও বিতরণ কার্যক্রমে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এতে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রবণতা কমার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন।