দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আজ শুক্রবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের আশপাশের সড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। তবে আমন্ত্রিত অতিথিদের যানবাহন এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।

নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।