ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত অন্যরা হলেন তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণাশিস দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম হোসেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অন্তত নয়জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কলকাতা পুলিশ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বয়স বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৩৯ থেকে ৪০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র আজকের আলো-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত তাঁর স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আগুনে প্রাণহানি

স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটিতে একাধিক হোটেল ছিল। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান এবং বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনেন।

আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরু বের হওয়ার পথ ও বায়ু চলাচলের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ায় শোকের ছায়া

একসঙ্গে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ায় স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের কলকাতা মিশন নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে বলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

হোটেল অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড বিদেশে চিকিৎসা বা ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। হোটেলে অবস্থানের সময় জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম এবং বিকল্প বের হওয়ার পথ সম্পর্কে আগেই জেনে নেওয়ার গুরুত্ব এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে এনেছে।