বৃক্ষ বাঁচুক, সবুজ প্রকৃতি বাঁচুক বেঁচে থাকুক মানব সভ্যতা, এমন স্লোগানে কক্সবাজারে পরিবেশ সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পরিবেশ সচেতনতা ও শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কর্মসূচিতে।
“গাছ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে” এমন অঙ্গীকারে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।
শুধু চারা বিতরণেই থেমে থাকেনি ওয়ার্ল্ড ভিশন রোপিত প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কক্সবাজারের মো. ইলিয়াস মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো: ইলিয়াস মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ ন ম মাইনউদ্দিন।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন লাগানো গাছের যত্ন নেয় এবং লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে এবং কোনো বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান বলেন, বৃক্ষ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই টিকে থাকবে আমাদের মানবসভ্যতা। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও লাগানো গাছের সুষ্ঠু পরিচর্যা সুনিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।
একই বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জনী বলেন, বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তার পাশে, খালি জায়গা এবং উপযুক্ত সরকারি জমিতে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণ করার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়ার্ল্ডভিশনের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তা বলেন, আজকের রোপণ করা একটি চারা গাছ যেমন আগামী দিনের ছায়াবৃত্ত বিশাল মহীরুহ, তেমনি আজকের শিশুরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারী। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের একটি বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। একটি গাছ লাগানো মানে শুধু একটি চারা মাটিতে পুঁতে দেওয়া নয় বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি নির্মাণ করা।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও শিশুদের সুরক্ষা দুটিই সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। আজকের সবুজ উদ্যোগই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ, এই বার্তা নিয়েই তারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের এডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর জয়শ্রী পিউরিফিকেশন, উপজেলা কোঅর্ডিনেটর জগন্ময় প্রজেস বিশ্বাস এবং মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ইমাম খালেদ স্বপন
আলোচনা সভা শেষে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থায়ন ও পরিচালনায় বিদ্যালয় মাঠের এক প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ছায়াদার ও পরিবেশবান্ধব চারার রোপণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ করা হয়। একইসাথে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় শপথ এবং প্রকৃতি ও মানবকল্যাণে যৌথ সামাজিক আন্দোলনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।