নোয়াখালীর সুধারাম থানার পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় একা বসবাসকারী এক বিধবা নারীকে উত্ত্যক্ত, ঘরে প্রবেশের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে আদালতে পিটিশন মামলা হয়েছে। একই মামলার সাক্ষী হিসেবে আসার পর ওই নারীর দেবর মো. কামাল (৬২) ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৫০) মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদী মিনারা বেগম (৫৫) অভিযোগ করেছেন, ২০০৫ সালে তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করছেন। তাঁর দেবর সপরিবারে ঢাকায় থাকেন এবং বাড়িতে অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য না থাকায় প্রতিবেশী মো. আব্দুস সাত্তার (৬৫) দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
মামলায় আব্দুস সাত্তারকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাতে ঘরে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আব্দুস সাত্তার মিনারার শোয়ার ঘরের দরজার নিচের মাটি সরিয়ে এবং কাঠের খিল খোলার চেষ্টা করে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে মিনারা প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বের হলে তাঁকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ সময় তাঁকে কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ঘরে সিঁদ কেটে জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ জুন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় মিনারার ঘরের পাশে এসে তাঁকে যৌন হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখান।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর মামলার সাক্ষীদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে মিনারার দেবর মো. কামাল ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আক্তার ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অন্য সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. ইসমাইল, স্থানীয় সমিতির মসজিদের সভাপতি মো. এছহাক, কৃষক মো. জামাল, মুদি ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার বাহারসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়া হলেও তিনি দরজা খোলেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্তের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ভুক্তভোগী মিনারা বেগম নিজের নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বামীর ভিটায় নিরাপদে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।