পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মহিষ মালিকদের কাছ থেকে তোলা ক্ষতিপুরণের টাকা না পেয়ে ২ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতাসহ ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। আজ বেলা ১১ টার দিকে ওই ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকা থেকে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকার কয়েকজন মহিষ মালিক পাশ্ববর্তী লালচরে তাঁদের মহিষ চারন করার সময় ওই চরে পানিতে পেতে রাখা মাছ ধরার চাই ভেঙ্গে ফেলে মহিষ। সেই চাইয়ের ক্ষতিপুরন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাঈনুদ্দিনের কাছে জমা রাখেন মহিষ মালিকেরা। মাঈনুদ্দিন ওই টাকা ক্ষতিগ্রস্থ কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকার চাই মলিকদের হাতে তুলে দেন।

কিন্তু চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জাময়াতের সভাপতি চরমিয়াজান গ্রামের সোহাগ হাওলাদার, আল আমিন ও সাইফুল শরীফ মহিষ মালিকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা ক্ষতিপুরণের ওই টাকা তাঁদের কাছে দিতে বলে ছিলেন। এতে মঈনুদ্দিন রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন সোহাগ। গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চরমিয়াজান বাজার এলাকা থেকে মাঈনুদ্দিন ও তাঁর বাবা শাহীন রাড়ী ফেরার পথে জামায়াত নেতা সোহাগ ও সাইফুলের নেতৃত্বে অরো ১০/১২ জনের একটি দল দেশীয় দা ও লাঠিসোটা দিয়ে আতর্কিত ভাবে মাঈনুদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে।

এ সময় মাঈনুদ্দিনের বাবা শাহীন রাঢ়ী এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মঈনুদ্দিন বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামী জামায়াত নেতা সোহাগ হাওলাদার, সাইফুল শরীফ ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে মাঈনুদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চরমিয়াজান বাজারে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় স্থানীয় মহিষ মালিক মালেক ফকির বলেন, আমরা ক্ষতিপুরন দেওয়ার জন্য প্রত্যেক মহিষ মালিকের কাছ থেকে টাকা তুলি। ওই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত চাই মালিকদের দেওয়ার জন্য মঈনুদ্দীনের কাছে জমা রাখি। মঈনুদ্দিন আমাদের কাছ থেকে কোন চাঁদা নেয় নাই। আমরা স্বেচ্ছায় মাঈনুদ্দীনের কাছে টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্ত একটি কুচক্রিমহল ওই ঘটনাকে মঈনুদ্দিন চাঁদা তুলেছে বলে অপপ্রচার করছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার ৩জন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তারকৃতদেরকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।