বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন—দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামিনের শর্ত হিসেবে বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এসব শর্ত বহাল থাকবে।
এর আগে, গত ১২ জুন দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে জানায় যে, দুবাই পুলিশ ও ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক মামলা করেছে। এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেনজীর আহমেদের নামও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।