নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কথিত জাল বা ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই জমি পরবর্তীতে নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হলে নথিতে অসংগতি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অধিকতর প্রশাসনিক পর্যালোচনার জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার সময় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে করা হয়নি। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, উপজেলার পদারকোনা মৌজার কয়েকটি বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি অনুমোদিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই নামজারির ভিত্তিতে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে দলিল নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হলে নথিপত্রে অসংগতি ধরা পড়ে।

মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান জানান, দলিলের নকল কপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে সাময়িকভাবে অফিসের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার আগে জমির মালিকানা ও দলিলের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়াই নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই নামজারির মাধ্যমে পরবর্তীতে জমি বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক মাঘান ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমি এখানে অনেক আগেই বদলি হয়ে চলে এসেছি। আমি যে নামজারির প্রস্তাব দিয়েছি, তা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করেই করেছি।”

ঘটনাটি সামনে আসার মধ্যেই মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হন।

গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহারের হাত থেকে তিনি সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে কীভাবে তাঁকে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন করা হলো।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি ভূমি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের বিষয়।

মামলায় অভিযুক্ত দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রথমে পরে কথা বলবেন বলে জানালেও পরবর্তীতে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দলিলের গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, জমির কাগজপত্র সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তাঁর দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে অন্য ব্যক্তিদের দখলে ছিল এবং তারাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক আছে বলে তাঁকে জানিয়েছিলেন।