নেত্রকোনার মদনে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মদন থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গেনেদা আক্তার ও রুমান মিয়া।

শুক্রবার উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী গ্রামের মনিকা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে শাহেদ, জাকারিয়া, গেনেদা আক্তার, আমিরুল, মানিক ও রাজন রয়েছেন। তাঁদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পদমশ্রী গ্রামের মনিকা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা শাহেদ মিয়ার স্ত্রী গেনেদা আক্তার গ্রামের মসজিদের একটি জমি ডাকের মাধ্যমে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। একই জমির ডাকের প্রক্রিয়ায় শাহান তালুকদারও অংশ নেন। পরে গেনেদা আক্তারের পক্ষ থেকে বেশি দামে জমিটি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

গেনেদা আক্তারের অভিযোগ, শুক্রবার তাঁর ছোট ছেলে শাহাবুলকে বাড়ির পাশের একটি মনোহারী দোকানে দেখতে পেয়ে শাহান তালুকদার ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন মারধর করেন। পরে তাঁরা গেনেদার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে তাঁর পরিবারের কয়েকজন আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

গেনেদা আক্তার বলেন, “মসজিদের জমিটি বেশি দামে নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে আমার ছোট ছেলে শাহাবুলকে মারধর করে। পরে বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

অন্যদিকে, গেনেদা আক্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপর পক্ষের আসাদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, গেনেদা আক্তারের করা অভিযোগ মিথ্যা। তাঁদের পক্ষ থেকেও রুমান মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায় কার—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।