মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের আমন্ত্রণে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর সীমিত সময়ের জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, ইসলামাবাদে সংলাপে অংশ নেওয়া মানেই সংঘাতের সমাপ্তি নয়; বরং চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নির্ভর করবে ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর।

Advertisement

পাকিস্তান এ সংলাপে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে উদ্যোগ নেন এবং ইসলামাবাদকে বৈঠকের স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেন। উভয় পক্ষই সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।

এর আগে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা চালানোর কথা উল্লেখ ছিল। প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তী সংশোধিত প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

বর্তমানে উভয় পক্ষই সীমিত সময়ের এই যুদ্ধবিরতির সুযোগে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরান তাদের নিজস্ব শর্তসমূহ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের এই সংলাপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমাধান নির্ভর করবে আলোচনায় উভয় পক্ষ কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তার ওপর।