রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত পদত্যাগপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর বা জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরেছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। ফলে তার আগাম দেশে ফেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ঢাকায় পৌঁছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, “আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। দেশে ফিরে এখন বিষয়গুলো জানতে পারব।”
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় তা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বঙ্গভবনের আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেছেন, তাকে দায়িত্ব ছাড়তে বলা হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে।
তবে এসব বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত।