সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াগঞ্জি মৌজার অন্তর্গত চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা এলাকায় নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে সোমবার (২১ জুলাই) ছাতক থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর, রহমতপুর, আলমপুর ও কাজীরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলা নদীর শাখা (চৈলতার ঢালা) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ জুলাই ভোরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সত্যতা পান।
মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইসলাম উদ্দিন মেম্বার (৫২), জমির আলী (৩৮), খালিক মিয়া (৪০), মাহমুদ হোসেন (৫০) এবং ধন মিয়া মেম্বার (৫৬)। এছাড়া আরও ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১০ জন অজ্ঞাতনামাকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীররক্ষা ব্যবস্থা ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে এবং আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(ঙ), ১২ এবং ১৫(১) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, “নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।”
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও নদীতীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগীরা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।