অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে সারাদেশের ভূমি অফিসগুলো, অনেকটা অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত হয়ছে। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না। এরই মাঝে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পাবনার সুজানগর উপজেলা পৌর ভূমি অফিসের ঝাড়ুদার মোঃ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভূমি অফিস নিয়ন্ত্রণ এর পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত কাজের সকল দেন দরবার হয় ঝাড়ুদার হেলালের মাধ্যমে। জানা যায় বেকার হেলাল উদ্দিন একই উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে বাজারের পাশে ভূমি অফিস থাকায় প্রায়শই সেখানে যাতায়াত করতো, তারপর আস্তে আস্তে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এরপর ফটোকপি করা, নাস্তা আনা নেওয়া করতো। তারপর অফিসের উর্ধতন এর যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেখানে মাস্টার রোল এ চাকুরীর সুযোগ পায়। এর পর আর পেছোনে তাকাতে হয়নি। এরপর কিছুদিন যেতেই পুরো ভূমি অফিস তার দখলে চলে আসে রীতিমতো চেয়ার টেবিলে অফিস করতে শুরু করে কর্মকর্তার ভূমিকায় দিতে থাকেন ভূমি সেবা। সেবা গ্রহীতা তার কথা না শুনলে পরতে হয় বিপাকে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হলেও সমাধান হয়না। যার ফলে গ্রামের মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই উৎকোচ দিয়ে কাজ হাসিল করে থাকেন। এ অর্থ তিনি নিজেনভোগ করেন না ভাগ পায় সব সকল কর্মকর্তা থেকে অফিস সহকারি পর্যন্ত।

তবে সেবা গ্রহীতারা তার দ্বারা হয়রানি হয়নি এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর। অফিসে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন মানুষের জটলা তারা নানা বিষয় নিয়ে ঝাড়ুদার হেলাল বসে থাকা টেবিলের সামনে পরামর্শ দিচ্ছেন কাছে যেতে জিজ্ঞেস করেন কি সমস্যা তারপর সাংবাদিক পরিচয় জেনেই চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠেন তারপর শুরু হয় ধানাই পানাই প্রথমে অস্বীকার করলেও ভিডিও ধারণ আছে বলতেই সাংবাদিকদের হাত চেপে ধরে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এবিষয়ে মোঃ হেলাল উদ্দিন কে জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি অফিস পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করি মাঝেমধ্যে ফাইলপত্র এগিয়ে দেই। যা করি স্যারদের নির্দেশেই করি। আমি ঝাড়ুদার আমার কি ক্ষমতা আছে যে অনুমতি ব্যতিত কিছু করবো।

আরেকটি রুমে লোকমান হোসেন নামে একজন কাজ করছে ফাইলের তাক থেকে ফাইল নামিয়ে চিরকুট দেখে কি যেন খোঁজাখুজি করছে। পরিচয় জানতে চাইলে কোন কথা না বলে বেরিয়ে যান অফিস থেকে। পরে জানা যায় তিনি আসলে এ অফিসের কেউ নয় কিন্তু দীর্ঘদিন অফিসের কাজের সাথে জড়িত।

সুজানগর পৌর এলাকার সাত নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন আমি একটা কাজে প্রথমে এসিল্যান্ড অফিসে যাই কম্পিউটার অপারেটর এর পাশে বসা একজন কাগজপত্র দেখে বলেন খরচ দেন কাজ হয়ে যাবে। আমি বলি কিসের খচর সরকারি খরচের বাহিরে টাকা দিবনা এ কথা শুনে আমার কাগজ ছুঁড়ে মারে। তারপর পৌর ভূমি অফিসে আসি এখানে হেলালের সাথে পরিচয় দিয়ে কথা বললে একই নিয়ম দেখান। বলতে গেলে টাকা ছাড়া এই অফিসের পাতাও নরেনা। আলমগীর বলেন আমি নামজারি করতে কতদিন ধরে ঘুরছি বলে দিয়েছে টাকা ছাড়া কিছু হবেনা। আমরা তাহলে কোথায় যাবো এই ভোগান্তির শেষ কোথায়।

সাংবাদিকদের দেখে মোঃ আয়ুব হোসেন নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন এই অফিস দুর্নীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। সেইসাথে এসিল্যান্ড অফিসও জড়িত। টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতেমাসের পর মাস কোন কন কাজে বছরের পর বছর ঘোড়াতে থাকে টাকা দিলেই মিলে সমাধান।

এরপর অফিস সহায়ক আব্দুল আলিম সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশে নিষেধ করেন এবং পাশের রুমে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় তিনি বলেন সব অফিসেই হয় এসব কি করবেন। আমরা আসার আগেও এসব চলছে।

এবিষয়ে সুজানগর পৌর ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হেদায়েত উল্লাহ সাথে কথা বললে তিনি কোন বক্তব্য প্রদান করতে রাজী হয়নি। ঝাড়ুদার হেলালের কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পরেন বলেন আমি এসবের কিছু জানিনা আপনারা যা পারেন করেন। ঝাড়ুদার কাজ করলে কি হয়েছে। এসব নিউজ করে কিছুই হয়না।

সুজানগর সহকারী ভূমি কমিশনার মেহেদী হাসান এর কাছে একজন ঝাড়ুদার হেলালের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঝারুদারের কাজ ঝাড়ু দেওয়া সে অফিসের ফাইলপত্রের কাজ করতে পারেনা। যদি সে করে থাকে তা অন্যায় করছে। তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, আমরা চাঁদাবাজি, দূর্নীতি প্রতিরোধে সর্বদা তৎপর কেউ আমাদের আত্বীয় হলেও ছাড় দেওয়া হবেনা। আপনারা জানালেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। জনগণ যাতে সঠিক সেবা পায় সেদিকে লক্ষ রেখে কাজ করছি।