সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পর এক তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সুমাইয়া (২৬) নামে এক সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহত স্কুলছাত্রীর নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। সে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া একই এলাকার আমিরুলের স্ত্রী এবং ওই বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায় ফারজানা। তবে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে বিকেলে কালিগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সুমাইয়াকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, শিশু ফারজানার কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”