ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বালু দিয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমি ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়ে অভিযান না করেই ফিরে এসেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের পাশে কৃষি জমি বালু দিয়ে অবৈধভাবে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রিন্স সরকার ও শাহরিয়া হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের শিমরাইলকান্দি এলাকায় দ্বিতীয় সেতুর পূর্বদিকে তিতাস নদীর তীর সংলগ্ন কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। গত কয়েক মাস আগে কৃষিজমির চারপাশে পিলারসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। গত ১০ মার্চ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রশাসন সেখানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে কৃষি জমির উপর ফেলা বালু নিলামে বিক্রির আদেশ দেন। কিন্তু অভিযানের পর রহস্যজনকভাবে বালু নিলাম কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আরেফিন হাসান, করিম মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। তাদের সাথে ছিলো প্রশাসনের লোকজনসহ শ্রমিক। ওই সময় সেখানে বালু ভরাট করা কৃষি জমিতে পিলার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ চলছিল। দুই ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা প্রায় ২০মিনিট গাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তাদেরকে দেখে নির্মাণ শ্রমিক ও জায়গার মালিক ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তারা চলে যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের গাড়িও চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রিন্স সরকার ও শাহরিয়া হাসান ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালাতে সড়কের শিমরাইলকান্দি এলাকায় যান। তাদের সাথে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ মিয়া ও অফিস সহায়ক লোকমান হোসেন জুয়েলসহ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রিন্স সরকার ও শাহরিয়া হাসান প্রায় ২০মিনিট সময় গাড়িতে অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে তারা অভিযান করেই সেখান থেকে চলে আসেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাহরিয়া হাসান খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে না পাওয়ায় অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। আমরা লোক লাগিয়ে রেখেছি। পরে অভিযান চালানো হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, কেন ফিরে এসেছে বিষয়টি খোঁজ নিব। নির্বাহী