সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৩নং পাইকুরাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালিজুরি গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না করেই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও রাস্তার নির্মাণকাজ বাস্তবে শেষ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিজুরি গ্রামের একটি সড়ক উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৭ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরুতে নামমাত্র মাটি ফেলে প্রথম কিস্তির ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।
এদিকে, প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জিয়াউল হকসহ এলাকাবাসী ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর ইউএনও জনি রায়ের নির্দেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেন বাকি অর্থ ও চালের বরাদ্দের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম অভিযোগকারীকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করান। এরপর তিনি প্রকল্পের অবশিষ্ট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকাও উত্তোলন করেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, টাকা উত্তোলনের পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
বালিজুরি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি সদস্য তাদের সামনে কাজ না করার বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে ওই অর্থ দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
অভিযোগ প্রত্যাহারকারী মো. জিয়াউল হক বলেন, “আমাকে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক যুবক অভিযোগ করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনিচ্ছুক বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। প্রকল্পের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন হলেও তদন্তের স্বার্থে ৭ টন চালের বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়েছে।”
তবে এই বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলামের বক্তব্য নিতে চাইলে বার বার মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চাইলে কল কেটে দেন।
এলাকাবাসী প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
