বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর আগে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয় ও মরহুমের বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, কোরআন খতম এবং জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৩৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ায় বসবাস করতেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। পৃথক শোকবার্তায় নেতারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
