ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরবর্তীতে চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এবং পরে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
