সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ এবং পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে বৈঠকের বিস্তারিত সময়সূচি বা পূর্ণাঙ্গ এজেন্ডা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে বলে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ফলে পূর্বে আলোচিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শুক্রবারের বৈঠক বাতিল হচ্ছে না; বরং সেটি বাস্তবায়ন ও পরবর্তী আলোচনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্যোগ, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক ও তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অন্যান্য বড় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান সমঝোতা একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ধাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত সমঝোতার চেষ্টা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে এই প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বিশ্লেষকদের মতে, বুর্গেনস্টকের বৈঠক ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

