ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার একটি সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া রিফাত (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ নরসিংদীর মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলার করিমপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৭ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কনিকা রানী দাস (৩৫) নামে এক নারী এবং রিফাত নামে এক যুবক আহত হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনার পর থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর করিমপুর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। রাতেই নিহতের বোন মুক্তা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন।

মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মরদেহে গুলির চিহ্ন ও বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত রিফাতের পরিবার জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। রিফাতের স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, “নরসিংদীতে রিফাতের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ বা মামলা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ছবি ক্যাপশন: নবীনগরের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর নরসিংদীর মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া যুবক রিফাতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের দৃশ্য।