আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই জাতীয় দলের হয়ে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এসব ম্যাচে তিনি করেছেন ১১৭টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৪টি গোল। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও সাফল্যের মালিক এই ফুটবল জাদুকর এবার ছুঁতে যাচ্ছেন আরেকটি অনন্য উচ্চতা।

Advertisement

মেসির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। তবে সেই অভিষেক সুখকর ছিল না। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই হতাশাজনক সূচনার পরই শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

জাতীয় দলের হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা। এছাড়া তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা শিরোপা।

পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ, কোপা আমেরিকায় ৩৯টি এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৭২টি ম্যাচ।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার গোলসংখ্যা ৩৬। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সর্বকালের সেরাদের কাতারে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড বর্তমানে পর্তুগালের তারকা Cristiano Ronaldo-এর দখলে। জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২২৮টি ম্যাচ। মেসি ২০০তম ম্যাচে পৌঁছালেও এখনও সেই রেকর্ড থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি Lionel Messi। তবে বয়স ৩৯ ছুঁলেও তার লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট—আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।