বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলের সমতায় ড্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ছিল আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, গতি, উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জয় পায়নি, যা ম্যাচের সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গেই মানানসই ছিল।

বল দখলের লড়াইয়ে ব্রাজিল সামান্য এগিয়ে ছিল। সেলেসাওদের দখলে ছিল ৫১ শতাংশ বল, আর মরক্কোর ছিল ৪৯ শতাংশ। গোলে নেওয়া শটের সংখ্যাও ছিল প্রায় সমান। তবে তৈরি হওয়া বড় সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে ছিল। কম হলুদ কার্ড দেখার সুবাদে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা আপাতত গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

Advertisement

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল দারুণ উপভোগ্য। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। সুযোগ তৈরি ও আক্রমণের ধার—দুই ক্ষেত্রেই প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে কিছুটা ছাপিয়ে যায় মরক্কো।

এরই ধারাবাহিকতায় ২১তম মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের অসাধারণ থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ব্রাজিলের দুই সেন্টার-ব্যাককে ফাঁকি দেন ইসমাইল সাইবারি। সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন তিনি।

গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাজিল। তবে তাদের হয়ে সমতা ফেরান তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি এবং ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে গেলেও গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল দুই দলই। ম্যাচের শেষদিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পায় ব্রাজিল। বিশেষ করে রাফিনহা এক পর্যায়ে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর মুখোমুখি হয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন।

অন্যদিকে যোগ করা সময়ে মরক্কোর নিল এল আইনাউইয়ের নেওয়া নিচু শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন। তার সেই সেভই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচায়।

রোমাঞ্চকর এই ড্রয়ের মাধ্যমে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ একটি করে পয়েন্ট অর্জন করেছে। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।