কুমিল্লার লাকসামের পশ্চিমগাঁও এলাকার ‘মজুমদার ডেন্টাল কেয়ার’র স্বত্বাধিকারী মো. শাজাহান মজুমদার ও তার ছেলেকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা একটি সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে শাজাহান মজুমদার বলেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা নামের এক নারী প্রশাসন, আদালত ও গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে শাজাহান মজুমদার জানান, সম্প্রতি ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণার মেয়ে লাকসাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তার ছোট বোনকে কোলে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সংরক্ষিত আছে। অথচ, সেই ফুটেজ ব্যবহার করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েটি ‘নিখোঁজ’ হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়।
পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল লাকসাম থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল মশার কয়েল আনার জন্য বাসার সামনের দোকানে গিয়ে ওই মেয়ে আর ফিরে আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, গত ১১ মে কুমিল্লার আদালতে ওই নারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১০ এপ্রিল, ১৫ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিলের চারটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা প্রসঙ্গে বাদী দাবি করেন, তার মেয়ে ‘আল-আমিন ইনস্টিটিউট’-এ যাওয়ার পথে অপহৃত হয়। বাদীর এই দাবির বিপরীতে ‘আল-আমিন ইনস্টিটিউট’ কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেয়েটি ২০২৫ সালের জুনের পর আর স্কুলে যায়নি। সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি প্রকাশ পায় সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে। যেখানে থানায় মশার কয়েল কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কিংবা আদালতে অপহরণের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে সংবাদ সম্মেলনে এসে গুম, অপহরণ, ধর্ষণ এবং অবৈধ গর্ভধারণের মতো মারাত্মক সব অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনা নিয়ে থানা, আদালত এবং সংবাদ সম্মেলনে বাদীর এমন ভিন্ন ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক বক্তব্য পুরো বিষয়টিকে চরম রহস্যজনক করে তুলেছে।
এদিকে, বাদীর সংবাদ সম্মেলন, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতের মামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্রের মধ্যে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও সাংঘর্ষিক তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন শাজাহান মজুমদার।
শাজাহান মজুমদার বলেন, “আমি আইন ও আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা হয়েছে, তাই আমি আইনি পথেই এটি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমাদের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যবসা ধ্বংস করতে এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে।” তিনি সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অনুরোধ জানান। বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়, জীবনযাপন এবং এই অপপ্রচারের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা কালো হাত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।