চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামে এক প্রলয়ঙ্কারী অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের অন্তত ২০টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কয়েক দশকের স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এলাকা জুড়ে এখন কেবলই শোক আর আহাজারির শব্দ।

​ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পুড়ে শেষ হয়ে যায় ১১টি পরিবারের সহায়-সম্বল।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেচার বাপের বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের জন্ম। আগুনের শিখা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২০টি ঘর গ্রাস করে নেয়। আগুনের উত্তাপ এবং বাতাসের তোড়ে স্থানীয়দের প্রাথমিক চেষ্টা ব্যর্থ হলে একে একে মকবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম তুষার, আইউব আলী, দেলোয়ার হোসেন, আবুল কাশেমসহ অন্যদের ঘরগুলো ভস্মীভূত হয়।

​ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সুমি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রান্না সেরে কেবল গোসলে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল, কিছুই বের করতে পারিনি।” আরেক ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতায় ঘরের কোনো আসবাবপত্র বা জরুরি কাগজপত্র রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা।

​ঘটনার বিষয়ে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির জন্য ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।