দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ জন, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে সিলেট বিভাগে তিনজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।

একই সময়ে নতুন করে ১২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ১৫০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩৮ হাজার ৫৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ হাজার ৮৩২ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তারা দ্রুত গণটিকাদান জোরদার, আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।