দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার পর অবশেষে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৯৬ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তা চাকরিতে অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগ আদেশ বাতিল হয়ে যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার স্বার্থে তাদের নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে ওই ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে। ফলে তারা ধারণাগতভাবে একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার সুবিধা পাবেন। তবে এ কারণে অতীত সময়ের কোনো আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া ভাতা প্রাপ্য হবে না।

২৭তম বিসিএসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও আইনি লড়াই বাংলাদেশের সরকারি চাকরি ব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হলেও ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেই ফল বাতিল করে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়।

ফল বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সর্বশেষ নতুন এই ৯৬ জনের নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় থাকা আরও একদল প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হলো।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নিয়োগ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়, বরং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও আংশিক সমাপ্তি।