দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মায়েদের উদ্বেগ কমানো।
বুধবার সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে এবং অধিকাংশ জেলায় ইতোমধ্যে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যেসব শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আওতায় আনার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, “হামের টিকার বাইরে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই টিকাদানই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আমরা নিয়মিতভাবে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো শিশুকে বাদ না দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বছরে দুই দফা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ জটিলতা বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট, আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সুবিধা বাড়িয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর সহায়তা পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, আইসোলেশন এবং জরুরি সেবায় কোনো ঘাটতি না রাখার চেষ্টা চলছে।”
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন সরকারের টিকাদান কর্মসূচির জন্য ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান দেয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পোলিও ভ্যাকসিন রয়েছে এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে অ্যান্টিরেবিস টিকাদান কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হামের টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। তবে এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুমৃত্যু কমানো।
তিনি বলেন, “সংকট মোকাবিলা শেষ হলে কোথায় কী ঘাটতি ছিল, তা পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আক্রান্ত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”
দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুর চাপ বাড়ায় চিকিৎসাসেবায়ও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকারি হিসাবে, ইতোমধ্যে কয়েকশ’ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকাদান সম্প্রসারণ, আক্রান্তদের পৃথকীকরণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।