বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং আগামী প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় সক্ষম করে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী প্রকল্পও সেই পরিকল্পনার অংশ।
শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মৌজায় নির্মাণাধীন ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমানসহ বিসিকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প বিকাশে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও ইতোমধ্যে চিজ ও চা উৎপাদনে সুনাম অর্জন করেছে। কৃষিপণ্য ও ফলমূল উৎপাদনে সমৃদ্ধ এই জেলায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট নিয়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্পটি জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন। ৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব এ শিল্পনগরী। প্রকল্পের আওতায় ২৫১টি শিল্প প্লট তৈরি করা হবে, যেখানে প্রায় ২৩০টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুগ্ধ, শাক-সবজি, ফলমূল, চা ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্যভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
পরে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিক চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স গোল্ডেন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ ও থ্রি স্টার ফ্লাওয়ার মিল পরিদর্শন করেন। এ সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মপরিবেশ ও পণ্যের মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্প সম্প্রসারণে উৎসাহ দেন।