চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের শংকরচন্দ্র গ্রামে সালিশ বৈঠকের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলিমদ্দীন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত রসুল ফকিরের ছেলে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও টাকা ফেরত না দেয়ায় জিয়াউর রহমান একাধিকবার টাকা ফেরত দাবি করেন। বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণের পর একপর্যায়ে আরিফ পরিবারের সহায়তায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জিয়াউর রহমান ও তার স্বজনরা পলাতক আরিফের ছেলেকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আরিফের বাবা লিয়াকত আলী, ছোট ভাই আল-আমিন ও মা জেসমিন খাতুনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের চাচা ঝড়ু মন্ডলের ছেলে আলিমদ্দীনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিহতের পরিবারের দাবি, লিয়াকত আলী, আল-আমিন ও জেসমিন খাতুন মিলে আলিমদ্দীনকে মারধর করলে তিনি বুকে গুরুতর আঘাত পান।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটক দুজনকে হেফাজতে নেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের কাজ চলছে। এ ঘটনায় লিয়াকত আলী (৬৫) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।