ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ছতরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা মানবতার শত্রু। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এমপি শ্যামল আরও বলেন, বিজয়নগরকে মাদক ও অনলাইন জুয়া মুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চাপ যেন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মাদক ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, র‌্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরনবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক সাজেদুল হাসান, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ।

বক্তারা বলেন, মাদক একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর বিস্তার রোধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঝুঁকিতে পড়বে।

সমাবেশে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কেউ মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।