কুড়িগ্রামের উলিপুরে সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক মনোনয়ন ঘিরে আলোচনার মাঝেই ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নুর উন নাহার বেগম। দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, স্থানীয় জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি নিজেকে জনসেবামুখী রাজনীতির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নীরবে কাজ করে আসছেন তিনি। বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহযোগিতা—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার একটি স্থায়ী যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে নুর উন নাহার বেগমের এই অবস্থান একটি ভিন্ন বার্তা বহন করে। তাদের ভাষায়, নির্বাচনী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সক্রিয়তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি জনসম্পৃক্ততা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমতও একই ধরনের। তারা মনে করেন, নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংকটময় সময়ে পাশে থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেই একজন নেতার প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। এ কারণে মনোনয়ন না পেলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নুর উন নাহার বেগম বলেন, “মনোনয়ন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, তবে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি উলিপুরের মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”

রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ ধরনের অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে, যেখানে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।