সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে কৃপেশ রায় (৪০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামসহ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত কৃপেশ রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত কৃপেশ রায় রাজারগাঁও গ্রামের শ্রী ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। তবে তিনি বর্তমানে চাকরিতে আছেন, নাকি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বা তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের দাবি, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) কৃপেশ রায়ের নামে পরিচালিত ‘কৃপেশ রায়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর চাচাতো ভাই পন্টি রায় তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাঁর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অথবা ভুয়া পোস্ট দিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে আইনি সুরক্ষা চেয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তিনি নিজেই তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, একটি চক্র তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রাজারগাঁও গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী।
চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার সবাই চান। তাই আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো মন্দির বা কারও ওপর যেন কোনো ধরনের হামলা বা আঘাত না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জুনাব আলী আরও আহ্বান জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা