ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মো: সাবেদ (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ৮ নং দাওগাঁও ইউনিয়নের চন্দনীআটা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রের সূত্রে জানা যায়, চন্দনীআটা গ্রামের মো: রফিকুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২৩ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দা, কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলায় রফিকুল ইসলামের ভাতিজা মো: শাকিলের (২৫) ডান চোখের ভ্রুর ওপর ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। মো: সাবেদের মাথায় কুড়ালের আঘাত লাগে। এ ছাড়া লাঠির আঘাতে রফিকুল ইসলামের হাতের কবজি ভেঙে যায়। এ সময় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।

হামলাকারীরা শাকিলের পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত সাবেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন।

পুলিশ ২৫ অক্টোবর চন্দনীআটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো: ফারুক মিয়া (৪৫) মো: আব্দুস সামাদ (৬৫) আ. জুব্বার (৬০) মো. আনিছ মিয়া (৩০) ও সাইফুল ইসলাম (৪৮)। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা আসামি। অন্য দুজনকেও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ২৬ তারিখ তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চন্দনীআটা গ্রামে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে সাবেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পরে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।