হবিগঞ্জ শহরের চাদের হাসি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোলাইমানের গাফিলতি এবং তার সহকারী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট আল আমিনের জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করার কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার মো. জাকারিয়া রকি।
রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
জাকারিয়া রকি বলেন, গত ২৪ আগস্ট শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে তার বাবা হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চাদের হাসি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাকে চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তার অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার সময় ডা. সোলাইমানের গাফিলতি ছিল। একই সঙ্গে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তার সহকারী আল আমিন জোরপূর্বক তার বাবার শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরই গোলাম মোস্তফা রফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান বলে দাবি করেন জাকারিয়া রকি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ডা. সোলাইমান শহর ছেড়ে চলে যান। পরে তার বাবার মৃত্যুসনদ ১১ দিন পর দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া রকি বলেন, তারা এ ঘটনায় একটি তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে চাদের হাসি হাসপাতাল ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট আল আমিনকে দায়ী করা হলেও ডা. সোলাইমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
জাকারিয়া রকি বলেন, “আমার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় ডা. সোলাইমানের গাফিলতি রয়েছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে শিগগিরই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. সোলাইমান বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়। তিনি দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক ছিলেন।