জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকার ব্যর্থ হলে সংশিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত। একই সাথে এসব ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এড়াতে পারেন না।
তিনি শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম আরো বলেন, ‘আমরা যখন স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরি, আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উড়িয়ে দেন। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে দুর্বলতার জায়গা হলো, তারা নিজেদের সমস্যাটাকেই সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে না।
তিনি বলেন, ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে সম্প্রতি এক শিক্ষিকা রিকশায় করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তার হাত থেকে ব্যাগ টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পড়ে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটছে। রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের চারজনকে একসাথে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ ছয় মাসের তুলনায় বর্তমান সরকারের ছয় মাসে এ ধরনের অপরাধের ঘটনা বেশি ঘটেছে। আমরা বর্তমান সরকারকে আহবান করব, বিশেষ করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি যেন তার মন্ত্রণালয়ের দিকে নজর দেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বিএনপি সরকারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি দিন দিন খারাপ হতে থাকে, দিন দিন যদি অরাজকতার পরিমাণ বাড়তে থাকে, বিএনপির সরকারের যে স্থিতিশীলতা, এই স্থিতিশীলতার জন্য তাদের কারণটাই সবচেয়ে ক্ষয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, তেল-গ্যাসের বিষয়টা আমি মনে করি সরকারের পলিসিগত ব্যর্থতা। তার দাবি, জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে বাজারে তেলের সংকট তৈরি করেছিল। ‘যখন পেট্টোল পাম্প মালিক বা ব্যবসায়িক একটা অংশ সিন্ডিকেট করল যে জ্বালানি তেল নেই, সরকার পর্যন্ত তাদের কাছে ব্যর্থ হয়ে দাম বাড়ায়। আর তারপর থেকে পেট্রোল পাম্পে আর কোনো লাইন নেই। তার মানে পেট্রোলও ছিল, ডিজেলও ছিল। কিন্তু ওই সিন্ডিকেট এগুলো মজুদ করে রেখেছিল বিক্রি করার জন্য। কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল।
সারজিস আলম বলেন, প্রত্যেকটি জায়গায় সরকারের ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোক আছে, যাদের একটি উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেকটি সেক্টরকে লুটপাট করা, চাঁদাবাজি করা, ধান্দাবাজি করা, নিজের আখের গোছানো।
তিনি বলেন, যদি অর্থমন্ত্রী কিংবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এই কথা বলেন যে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে এই সেক্টরগুলোর সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটা মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
শুধু কোনো একজন মন্ত্রীকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বড় নেতা দেখি। একজন ব্যক্তি বা একটা মিনিস্টারকে দায় দিয়ে লাভ নেই। এই দায়ভার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।
সারজিস আলম দেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতের বিভিন্ন তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফেরার একটি হাওয়া-বাতাস দেখতে পাচ্ছে। জনগণ এই বাতাস দুটো জায়গায় দেখতে পাচ্ছে একটি সোশ্যাল মিডিয়ায়, আরেকটি ভারতে।
তবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফেরার কোনো বাতাস আসার সুযোগ নেই। এই স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখন্ডে অত্যাচারী, খুনি, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি, শেখ হাসিনা কোনো দিন ফিরতে পারবে না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জনগণ তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদী, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক বাকের আহমেদ মজুমদারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।