ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে হওয়া টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। সেখানকার পানি এসে রবিবার বিকেল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে ঢুকে। অবশ্য সোমবার দুপুর থেকে বেশ কিছু এলাকার পানি নামতে শুরু করে। তবে হওড়া নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় পানিবন্দি হয়ে পড়া ১৫ পরিবারকে সহায়তা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় পাঁচটি পানিবন্দি পরিবারের হাতে চালসহ শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে আরো ১০টি পরিবারের হাতে একই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে এসব সহায়তা পৌঁছে দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার ২৫০ হেক্টর ধানি জমি পানির নিচে চলে যায়। রবিবার বিকেল থেকে পানি বাড়তে থাকে। তবে সোমবার সকাল থেকে হাওড়া নদীর আশেপাশের এলাকার পানি কমতে শুরু করে। কালন্দী খাল সংলগ্ন এলাকায় পানি দুপুর নাগাদ আগের মতোই রয়ে যায়।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা সাংবাদিকদেরকে জানান, আকস্মিক পানি বাড়ায় আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়নের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তবে খুব দ্রুতই পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে না।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া সোমবার দুুপরে বলেন, ‘হাওড়া নদীর আশেপাশের এলাকার পানি নেমে যাচ্ছে। তবে কালন্দী খাল এলাকার আশেপাশে জমির পানি আগের মতোই রয়ে গেছে। তবে বাড়িঘরে এখনো পানি উঠেনি। আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো অবস্থা এখনো হয়। আমরা এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। পানিবন্দি পরিবারকে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’