দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার প্রত্যয়ে সমুদ্রঘেষা দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে বাস্তবায়নাধীন বৃহৎ মেগা প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর, যা জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সফরকালে তিনি গভীর সমুদ্রবন্দর, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ হেলিকপ্টারটি মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে।
মাতারবাড়ীতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, শামীম আরা স্বপ্না এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানসহ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেন, মাতারবাড়ী কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল বা সাধারণ কোনো অবকাঠামো প্রকল্প নয় এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল পরাশক্তি। একটি কার্যকর গভীর সমুদ্রবন্দর এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অবকাঠামো আমাদের দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বৈপ্লবিক রূপান্তর আনবে। মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই পুরো অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিকস ও হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং দেশি বিদেশি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে কোনো ধরনের শিথিলতা কাম্য নয়। আজ যে ভিত্তি আমরা সুদৃঢ় করছি, তা আগামী দিনের স্বাবলম্বী বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
পরিদর্শন শেষে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মিডা-র আওতাধীন প্রস্তাবিত অবকাঠামো ও অঞ্চলভিত্তিক ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ব্লু প্রিন্ট উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠক শেষে কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতির সূচক ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে তা সামগ্রিকভাবে কক্সবাজার তথা দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, বড় জাহাজে পণ্য খালাস এবং লজিস্টিকস খাতের এই অগ্রগতি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন উচ্চতায় আসীন করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি ও পরিদর্শন মাতারবাড়ীর চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রæত বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পাশাপাশি সরকারের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।