“তারাই আমাদের অচল করে দিতে চায়, যারা বিগত দিনে নিজেরাই অচল ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই আমাদের অচল করার কোনো সুযোগ নেই বলে বক্তব্য দেন পৌর জামায়াতের আমীর এড. আবুল ফারাহ নিশান
লক্ষ্মীপুর (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি প্রথমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শহরের উত্তর স্টেশন শহীদ আফনান চত্বর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ স্টেশন শহীদ মাসরুর চত্বরে এসে পূনরায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হয়ে শেষ হয়।
তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালে লক্ষ্মীপুরে র্যাব-১১ মোতায়েনের সময় আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন সাবু রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় তার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। একই সময়ে জেলা জামায়াতের আমির ডা. ফয়েজ আহম্মদকে গুলি করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নিশান। তিনি বলেন, ওই সময় আন্দোলনকে সচল রাখতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে রাজপথে ছিলেন।
অ্যাডভোকেট নিশান আরও বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আমরা বলেছিলাম, আরও এক মাস আন্দোলন চালিয়ে যান। কিন্তু তখন কিছু নেতা আন্দোলনের সঙ্গে আপস করে সেটিকে দুর্বল করে দেন। এ কারণেই খালেদা জিয়া নিজ দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতার প্রতিও আস্থা রাখতে পারেননি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার চারপাশে এমন লোক রয়েছে, যারা অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষতি করেছে, এখনও আপনার ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তারা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তাই জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির নজির আহম্মদ, সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, সাবেক সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবীর মুরাদ, শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান, বিডি পার্টির জেলা সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ, এনসিপি সেক্রেটারি এড. শামসুজ্জামান সোহেল, ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।