চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে বৈরী আবহাওয়াজনিত জটিলতা এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এর আগে সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।

সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ

ড. মাহদী আমিনের ঘোষিত উদ্যোগগুলো হলো—

প্রথমত, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা গ্রহণে সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি কিংবা প্রয়োজন হলে পরীক্ষা স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

চতুর্থত, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে প্রশ্নপত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য দেশের সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

পঞ্চমত,
প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

‘শুধু পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’

ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি কেবল একটি পাবলিক পরীক্ষা নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সরকারের ঘোষিত নতুন উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।