হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, হামলায় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির অভিযোগ
এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় একদল হামলাকারী তাদের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাত পৌনে ৮টার দিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় উপস্থিত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় দলের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সারজিস আলমসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় থানার মোড় এলাকায় বহরের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সাময়িকভাবে একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তির উস্কানিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ওই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রিংগনের ভাষ্য, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করছে।
পুলিশের বক্তব্য মেলেনি
ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অপেক্ষা
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা—এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।