দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে অবশিষ্ট এলাকা নিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে বর্তমান গফরগাঁও উপজেলা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপ-সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় গফরগাঁও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ধারা ৩(২)-এর ক্ষমতাবলে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার আওতায় থাকবে মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাঙ্গাব ইউনিয়ন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত নয়াবাড়ী মৌজায়।
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা গঠনের পর অবশিষ্ট বারবারিয়া, চরআলগী, যশরা, রাওনা, রসুলপুর, সালটিয়া ও গফরগাঁও ইউনিয়ন এবং গফরগাঁও পৌরসভা নিয়ে পুনর্গঠিত হয়েছে বর্তমান গফরগাঁও উপজেলা।
জনসেবায় নতুন দিগন্ত এলাকাবাসী মনে করছেন, নতুন উপজেলা গঠনের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দীর্ঘদিনের জনদাবির পর সরকারের এ সিদ্ধান্তে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।