বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম’ আয়োজিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ গফরগাঁওকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক আনোয়ারুল কাইয়ুম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও–দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু।

এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, প্রফেসর ড. সিরাজুল হক, যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, তিতাস গ্যাসের সাবেক জিএম ফয়জুল বারী গোলাপ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার হাম্মাদ হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি ও ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আগামী পাঁচ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চিত্র বদলে যাবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে গফরগাঁও পৌরসভায় ৩২ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও ১৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তিনি জানান, গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পাকাকরণ, এইচবিবি ও ইট সোলিংয়ের কাজ চলছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, উপজেলা সদর স্থাপনের ক্ষেত্রে সামষ্টিক কল্যাণকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সরকার নির্ধারিত স্থানটি দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের মানুষের জন্য যৌক্তিক ও উপযুক্ত।

বিজিএপিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেন, উপজেলা সদরকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত করা গেলে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ গফরগাঁও অচিরেই একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ উপজেলায় পরিণত হবে।