বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্সের লড়াইকে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দলই দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় অনেকের মতে, এটি যেন ফাইনালের আগেই আরেকটি ফাইনাল।

পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখল ও পাসিংয়ে স্পেন এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের কার্যকারিতা এবং গোল করার দক্ষতায় এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স।

ফিফার টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ছয় ম্যাচে স্পেন মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস সম্পন্ন করেছে, যা ম্যাচপ্রতি গড়ে ৬৭৯.২টি। একই সময়ে ফ্রান্সের গড় পাস ৫৬১.৫টি, অর্থাৎ স্পেনের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম। পাস সফলতার হারেও স্পেনের সামান্য এগিয়ে থাকা লক্ষ্য করা যায়। দুই দলের মধ্যে স্পেনের সফলতার হার ৯১ শতাংশ, আর ফ্রান্সের ৯০ শতাংশ।

তবে গোলমুখে ফ্রান্সের কার্যকারিতা বেশি। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই দলই ১১০টি করে শট নিয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সের ১১০ শটের মধ্যে ৪৭টি ছিল লক্ষ্যে এবং সেখান থেকে তারা ১৬টি গোল করেছে। অন্যদিকে স্পেনের ৪০টি শট লক্ষ্যে থাকলেও গোল এসেছে ১১টি। অর্থাৎ সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দিদিয়ের দেশমের দল এগিয়ে।

আক্রমণভাগের ধরনেও রয়েছে পার্থক্য। স্পেন তুলনামূলক বেশি উইংভিত্তিক আক্রমণ গড়ে তুলে এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে। বিপরীতে ফ্রান্সের গড় ১৬.৫টি ক্রস, তবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও ফিনিশিংয়ে তাদের সাফল্য বেশি।

শৃঙ্খলার দিক থেকেও সামান্য এগিয়ে ফ্রান্স। দলটি এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল করেছে, যা ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি। স্পেন করেছে ৬৮টি ফাউল, অর্থাৎ গড়ে ১১.৩টি। হলুদ কার্ডেও ফ্রান্সের সংখ্যা কম—তাদের চারটি, স্পেনের পাঁচটি। তবে সেমিফাইনালের আগে হলুদ কার্ডের হিসাব রিসেট হওয়ায় কোনো খেলোয়াড়ই পূর্বের কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকছেন না।

সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়েও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। সর্বশেষ বড় টুর্নামেন্টে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। পরে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ইউরোপের শিরোপা জেতে লা রোজা।

বিশ্লেষকদের মতে, সেমিফাইনালে স্পেনের বলের দখল ও পাসিংভিত্তিক ফুটবলের বিপরীতে ফ্রান্সের দ্রুতগতির আক্রমণ এবং গোল করার দক্ষতার লড়াইই ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।