ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং (Land Zoning) কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনদের অবহিত করতে একটি জেলা পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় কৃষিজমি সংরক্ষণ, ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প-এর উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের টিম লিডার ও চিফ টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এ. আর. এম. খালেকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, নয়টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

কর্মশালায় জানানো হয়, ভূমি জোনিং হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বিদ্যমান ভূমি ব্যবহার, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে ব্যবহারভিত্তিক অঞ্চল নির্ধারণের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কৃষি, আবাসন, শিল্প, জলাভূমি, বনভূমি ও অন্যান্য ভূমি ব্যবহারের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভূমি জোনিংয়ের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে। পরবর্তী যাচাই-বাছাই, অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং আপত্তি নিষ্পত্তির পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আপত্তি থাকলে তা বিধি অনুযায়ী গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জেলার মধ্যে নাসিরনগর উপজেলায় আবাদি জমির হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৭.১৩ শতাংশ। অন্যদিকে আখাউড়া উপজেলায় আবাদি জমির হার সবচেয়ে কম, প্রায় ৫৭ শতাংশ। বসতভিটার হার সবচেয়ে বেশি আখাউড়ায়, প্রায় ১৯.১৭ শতাংশ। আশুগঞ্জ উপজেলায় জলাভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৩.৪৫ শতাংশ, আর বনভূমির হার সবচেয়ে বেশি কসবা উপজেলায়, প্রায় ২.২৫ শতাংশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিজমি, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা। ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকার ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার ডিজিটাল মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষিজমির তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কৃষিজমির অযৌক্তিক রূপান্তর রোধে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করা হবে এবং ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, ডিজিটাল ভূমি জোনিং বাস্তবায়িত হলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কৃষিজমি সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।