ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকায় তিতাস নদীর একটি অংশে বালু ফেলে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীর অংশ থেকে বালু অপসারণের নির্দেশ দিলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনাস্থলটি পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরঘেঁষে বালু ফেলে রাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতীর ক্ষয় এবং ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তারা দ্রুত নদীর অংশ থেকে বালু অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরাইল-অরুয়াইল সড়কের অরুয়াইল সেতুর পাশের নদীর দুই স্থানে বিপুল পরিমাণ বালু ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিটি স্থানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট এলাকাজুড়ে বালুর স্তূপ তৈরি হয়েছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে ওই স্থানে বালু এনে মজুত ও বিক্রি করছেন। তাঁদের দাবি, বালু রাখতে রাখতে নদীর ভেতরের অংশ পর্যন্ত চলে যাওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর অংশ চিহ্নিত করে লাল নিশান টানিয়ে বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, তিনি জায়গাটি ভাড়া নিয়ে মালিকানার সীমানার মধ্যেই বালু সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রশাসন লাল নিশান দিয়ে গেছে এবং যদি বালু নদীর অংশে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই দখলের ঘটনা রয়েছে এবং তিনি নদী দখল করেননি।

এ বিষয়ে পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কুমুদ লাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নদীর অংশ চিহ্নিত করে লাল নিশান দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত নদীর অংশ থেকে বালু অপসারণ এবং তিতাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।