অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের হস্তক্ষেপে সরাইলে গত তিনদিন ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধের আশ্বাস দিয়েছে সংঘর্ষে জড়িত বিবাদমান দুই গ্রামবাসী।

গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আলোচনা করার পর বিবাদমান দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষ বন্ধ করার আশ্বাস দেন। একই সাথে তারা একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচারের দাবি জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ দুই গ্রামের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও সালিশকারকদের নিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃংখলা রাখতে এই উদ্যোগ নেন।

নেতৃবৃন্দ প্রথমে সূর্যকান্দি গ্রামে যান সেখানকার গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরে তারা ধরন্তি গ্রামে যান ও সংঘর্ষে নিহত খাদিম মিয়ার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদেরকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন। একই সাথে ধরন্তি গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান। এ সময় গ্রামবাসী খাদেম মিয়া হত্যা মামলার ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দেয়।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামবাসীর মধ্যে গত তিন দিন ধরে সংঘর্ষ চলছিলো। আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন আর সংঘর্ষে জড়াবেন না। আইনিভাবে তারা তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।
উল্লেখ্য,সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া ধরন্তি গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে বিলের পাটি বিক্রির ১ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন । গত রোববার বিকেলে মোশারফ মিয়া খাদিম মিয়ার কাছে পাওনা টাকা চাইলে খাদিম মিয়া টাকা পরিশোধে আপত্তি জানায়। এতে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে রাতের বেলা সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে খাদিম মিয়া নিহত হয়। এর জের ধরে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় দুই দল গ্রামবাসী। টানা তিনদিনের সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়।