কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গভীর রাতে ব্রাজিল-জাপান বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে এক প্রকৌশলী সশস্ত্র ডাকাত দলের কবলে পড়ে মোটরসাইকেল হারিয়েছেন। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সড়কের কোদালিয়া চৌরাস্তার কিছু দূরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম (বাবু) পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের একমাত্র ছেলে। তিনি পাকুন্দিয়া সদরে অবস্থিত টোয়েন্টি টেক ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, বন্ধুদের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত প্রায় ২টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তা ফিলিং স্টেশনের অদূরে পৌঁছালে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে।
তিনি বলেন, প্রথমে তারা আমাকে বলে, আমি সামনে একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে এসেছি। আমি বলি, চলেন গিয়ে দেখি। মোটরসাইকেল ঘোরানোর চেষ্টা করতেই একজন চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে আমি মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড়ে দিলে একজন চাপাতি হাতে আমাকে অনেক দূর পর্যন্ত ধাওয়া করে। পরে তারা আমার ব্যবহৃত পালসার সিঙ্গেল ডিস্ক মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, পরে পরিচিত একজনকে ফোন করে এনে সঙ্গে নিয়ে সুখিয়া বাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও মোটরসাইকেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার ধারণা, ডাকাতরা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প সড়ক দিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পরপরই তিনি পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গভীর রাতে বিভিন্ন সড়কে পুলিশের টহল দুর্বল থাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা সহজেই এমন ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং রাতের সড়কে পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে গভীর রাতে খেলা দেখে বাড়ি ফেরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, রাতেই ভুক্তভোগীর ফোন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট টহল টিমকে ওয়্যারলেস মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা দেওয়া হয়। পরে একটি মোটরসাইকেল আটক করে তাকে দেখানো হলেও সেটি তার মোটরসাইকেল ছিল না। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।